মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি:বরিশালের বানারীপাড়ার ইউপি সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান বেপারী (৫০)’র রাজধানী ঢাকায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুর হেলথ কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে তার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
জানা যায়, মিজানুর রহমান ঢাকার যাত্রাবাড়ির ফল ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী।সেখানে তার কাঁচামালের আড়ৎ রয়েছে। করোনার লকডাউনের কারণে গত ১১ এপ্রিলের ইউপি নির্বাচন স্থগিত হলে তিনি তার কর্মস্থল ঢাকায় ফিরে যান। বুধবার (২ জুন) বিকাল ৫টার দিকে তিনি ও তার ভাই সেলিম আড়তে বসে কথা বলার সময় মিজানের মোবাইলে কল এলে তিনি বাহিরে বের হয়ে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাঁচপুর ব্রিজের অদূরে পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার সঙ্গে থাকা মোাবাইল কল লিস্ট দেখে তার ভাই সেলিমের নম্বরে জানান। পরে সেলিমসহ স্বজনরা সেখান থেকে মিজানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু করোনা রোগীর কারণে আইসিইউতে সুযোগ না পাওয়ায় সেখান থেকে মোহাম্মদপুরের হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জুন সকাল সোয়া ৮টায় মিজানের মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মিজানের ছোট ভাই সেলিম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সোনারগাঁও থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ প্রসঙ্গে সোনারগাঁও থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মিজানুর রহমানের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তার লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে তার মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
এ বিষযে মিজানুর রহমানের ভাগ্নে মিরাজ জানান, তার মামার শরীরের আঘাতের চিহ্ন ও মুখে বিষ প্রয়োগের আলামত রয়েছে।
অপরদিকে, স্বজনদের ধারণা নির্বাচনকে সামনে রেখে সুপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মিজানুর রহমান এর আগেও দু’বার ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান। এবারে তার নির্বাচনী প্রতীক ছিল ভ্যানগাড়ি।
উল্লেখ্য, ২১ জুন পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরে ২ জুন তিনি এলাকায় ফোন করে স্বজন ও নির্বাচনের কর্মীদের জানান, ৩ জুন তিনি এলাকায় ফিরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। কিন্তু ৩ জুন আর ফেরা হলো না। ৪ জুন ফিরলেন কিন্তু লাশ হয়ে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।